ইরানের সাথে ১০ দফা শান্তি প্রস্তাবে ট্রাম্প

০৮ এপ্রিল ২০২৬   08:56 AM(১ সপ্তাহ আগে)   223 Views
ইরানের সাথে ১০ দফা শান্তি প্রস্তাবে ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গ্লোলিংক

দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও চরম উত্তেজনার পর অবশেষে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া একটি ‘১০ দফা শান্তি প্রস্তাব’কে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঐতিহাসিক সমঝোতার অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একটি বিশেষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।



প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা ও নমনীয় সুর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করার ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘বাস্তবসম্মত’ প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে পারে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, “আমরা একটি টেকসই চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি।” বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নমনীয় সুর মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।



ইরানের ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই প্রস্তাবকে তাদের জন্য বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো এই ১০ দফা পরিকল্পনার প্রধান শর্তগুলো হলো:



ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।



হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।



মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।



ইরান ও তার মিত্রদের ওপর সব ধরনের হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।



হিমায়িত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।



চুক্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজল্যুশন পাস।



হরমুজ প্রণালি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ চুক্তির অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি আদায়ের দাবি জানিয়েছে, যা ওমানের সঙ্গে ভাগ করে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যয় করা হবে। তবে মার্কিন ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মার্ফিসহ আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই শর্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইরানকে এই প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।



ইসলামাবাদ বৈঠকের গুরুত্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা সম্ভব হয়েছে। আগামী শুক্রবারের ইসলামাবাদ বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানেই নির্ধারিত হবে দুই দেশ একে অপরের কঠিন শর্তগুলোতে কতটা ছাড় দেবে।



যদিও ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল তাদের শর্তে অটল থাকার ঘোষণা দিয়েছে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, একটি মধ্যপন্থা অবলম্বনের মাধ্যমেই হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। আপাতত সারা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের দিকে।





সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ডন ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।

গ্লোলিংক অপ্রয়োজনীয় সংবাদ দিয়ে পাঠকদের সময় অপচয় ও মস্তিষ্ক ভারী করে না, প্রয়োজনীয় সংবাদ ও তথ্য যাচাই করে প্রকাশ করে

আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট

সর্বশেষ সংবাদঃ

সপ্তাহের সর্বাধিক পঠিত