১০ এপ্রিলের মধ্যে পাস হচ্ছে ৯৮টি বিল: নজর কাড়ছে সরকারি চাকরি ও সাইবার সুরক্ষা আইন

০৫ এপ্রিল ২০২৬   08:34 AM(২ সপ্তাহ আগে)   3112 Views
৯৮টি বিল
নিজস্ব প্রতিবেদক, গ্লোলিংক

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টিই হুবহু বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যেই এই বিলগুলো আইনে পরিণত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ’, ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ এবং ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ’।



সরকারি চাকরিতে কড়াকড়ি: আন্দোলন বা অনুপস্থিতিতে বরখাস্তের ঝুঁকি



নতুন সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে সরকার। খসড়া অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী যদি:



অনুগত্যহীন কোনো কাজে লিপ্ত হন বা অন্যদের প্ররোচিত করেন,



ছুটি বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন,



অন্য কোনো কর্মচারীকে কাজে বাধা প্রদান বা উসকানি দেন,



তবে তাকে অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করা যাবে। শাস্তির মাত্রায় রাখা হয়েছে—নিম্নপদে অবনমিতকরণ, চাকরি থেকে অপসারণ বা সরাসরি বরখাস্ত। তবে কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে পূর্বের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে সরকার নতুন বিধানে শাস্তি দেওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে ‘কারণ দর্শাও’ (Show Cause) নোটিশ দেওয়ার বিধান যুক্ত করেছে।



সাইবার সুরক্ষা আইন: বাতিল হচ্ছে আগের সব মামলা



বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে প্রণীত হচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’। এই আইনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—পূর্বের সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া সকল মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।



নতুন আইনের উল্লেখযোগ্য দিক:



নাগরিক অধিকার: প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।



বাতিল হওয়া ধারা: মানহানি সংক্রান্ত বিতর্কিত ধারাগুলো সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।



শাস্তিযোগ্য অপরাধ: অনলাইন জুয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং ধর্মীয় উসকানি দিয়ে সহিংসতা ছড়ানোকে অপরাধ হিসেবে রাখা হয়েছে।



বাকস্বাধীনতা: ‘স্পিচ অফেন্স’ বা মতপ্রকাশের অপরাধের ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত করে কেবল সুনির্দিষ্ট উসকানির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।



সন্ত্রাসবিরোধী আইন: নিষিদ্ধ সংগঠনের শাস্তিতে আসছে পরিবর্তন



যে ১৫টি অধ্যাদেশে সংশোধনী এনে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ’। এই আইনের সাহায্যেই গত বছর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।



আগের আইনে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, সভা-সমাবেশ বা প্রচারণার ক্ষেত্রে শাস্তির বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল। বিশেষ কমিটি এখন এই অধ্যাদেশে সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এর ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দল বা সংগঠন যদি মিছিল, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের প্রচারণা চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

গ্লোলিংক অপ্রয়োজনীয় সংবাদ দিয়ে পাঠকদের সময় অপচয় ও মস্তিষ্ক ভারী করে না, প্রয়োজনীয় সংবাদ ও তথ্য যাচাই করে প্রকাশ করে

আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট

সর্বশেষ সংবাদঃ

সপ্তাহের সর্বাধিক পঠিত