ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা: বিপর্যস্ত যোগাযোগ অবকাঠামো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গ্লোলিংক
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চরম হুঁশিয়ারির পর ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। দেশটির একাধিক রেলপথ, মহাসড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বিত হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আইডিএফ-এর আগাম সতর্কতা ও কাশান ট্র্যাজেডি
হামলার ঠিক ১২ ঘণ্টা আগে আইডিএফ ইরানের নাগরিকদের ট্রেন চলাচল থেকে বিরত থাকতে এবং রেলপথ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরপরই ইরানের কাশান শহরে একটি রেল সেতুতে হামলায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মেহর নিউজ এজেন্সি।
টার্গেট যখন রেল ও সড়কপথ
ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিম্নরূপ:
কারাজ: শহরটির একটি রেললাইনে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সেখান থেকে আহতদের উদ্ধার করার ভিডিও প্রকাশ করেছে।
কোম প্রদেশ: পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশে একাধিক সড়ক সেতু লক্ষ্য করে প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তাবরিজ-তেহরান মহাসড়ক: পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটির একটি বড় অংশ হামলার শিকার হয়েছে।
আহওয়াজ: খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা উপপ্রধান জানিয়েছেন, আহওয়াজ শহরের একটি প্রধান সড়কেও হামলা চালানো হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল
হামলার তীব্রতার কারণে বর্তমানে তাবরিজ ও জানজান শহরের মধ্যবর্তী মহাসড়কটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্যারেহ চামান-মিয়ানেহ সড়কটি উভয় দিক থেকে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
বেসামরিক স্থাপনায় আঘাতের অভিযোগ
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনও (IRNO) দাবি করেছে, এই হামলার লক্ষ্যবস্তু কেবল সামরিক বা কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়; বরং আবাসিক এলাকা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার এই কৌশল ইরানের সামরিক মুভমেন্টকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশটিকে বড় ধরনের মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট