জুলাই আন্দোলনের আন্দোলনের 'ট্রফি' কোথায়?
নিজস্ব প্রতিবেদক, গ্লোলিংক
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার বক্তব্যে ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানকে বিএনপির রাজনৈতিক সাফল্যের ‘ট্রফি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্যের প্রধান পয়েন্টগুলো ছিল:
তিন আন্দোলনের কৃতিত্ব: তিনি দাবি করেন, দেশের তিনটি প্রধান গণ-আন্দোলনের কৃতিত্ব বা ‘ট্রফি’ একমাত্র বিএনপির ঘরে। তার মতে, আওয়ামী লীগ বা অন্য দলগুলোর কোনো না কোনো আন্দোলনে ঘাটতি রয়েছে, কিন্তু বিএনপি সবখানেই সফল।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব: প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে আন্দোলনের ‘ট্রফি’ তুলে দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছিলেন। এটিই প্রমাণ করে আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে কে ছিলেন।
জামায়াতকে সমালোচনা: তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের পর জামায়াতকে মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তারা হঠাৎ আবির্ভূত হয়ে এমন আচরণ করছে যেন এর আগে দেশে কোনো আন্দোলন (৭১ বা ৯০) হয়নি। এছাড়া অতীতে খালেদা জিয়া জামায়াত নেতাদের মন্ত্রী বানিয়ে ‘সম্মানিত’ করেছিলেন বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও হইচই
প্রতিমন্ত্রীর এসব মন্তব্যে সংসদে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় আসন গ্রহণ করা জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যরা।
অসত্য তথ্যের অভিযোগ: বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসত্য’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, অসংখ্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে বিরোধী দলকে নাজেহাল করা হয়েছে।
এক্সপাঞ্জ করার দাবি: শফিকুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিতর্কিত ও অসত্য অংশগুলো সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে জোর দাবি জানান।
স্পিকারের ভূমিকা ও পর্যবেক্ষণ
অধিবেশন চলাকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন।
প্রতিমন্ত্রী যখন দাবি করেন বিরোধী দলে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই, তখন স্পিকার নিজেই হস্তক্ষেপ করে জানান যে বিরোধী দলেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন (যেমন সাতক্ষীরা-৩ আসনের গাজী নজরুল ইসলাম)।
স্পিকার জানান, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং কোনো অসংসদীয় বা অসত্য তথ্য থাকলে তা বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে।
তিনি সদস্যদের অতীত ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এবং গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই আন্দোলনের তরুণদের দল এনসিপি একই মোর্চায় নির্বাচন করে এখন সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই তিক্ত বিতর্কের সৃষ্টি হলো।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট