হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অভিযান কতটা সফল হতে পারে তা নিয়ে বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গ্লোলিংক
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান নিয়ে বড় ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানি প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অভিযান কতটা সফল হতে পারে
মার্কিন বাহিনীর অনুকূলে থাকা শক্তিসমূহ
✓ প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব: মার্কিন নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর কাছে রয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক স্টিলথ ফাইটার জেট, ড্রোন এবং প্রিসিশন-গাইডেড মিসাইল। তারা ইরানের রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।
✓ গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারি: কৃত্রিম উপগ্রহ এবং উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী ইরানের যেকোনো সামরিক মুভমেন্ট রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ✓ মিত্রবাহিনীর সমর্থন: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু শক্তিশালী ঘাঁটি এবং মিত্র (যেমন: ইসরায়েল বা জিপিও ভুক্ত দেশসমূহ) রয়েছে, যারা লজিস্টিক এবং সামরিক সহায়তা প্রদান করতে পারে।
ইরানের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিরোধ ক্ষমতা (মার্কিন বাহিনীর সফলতায় বাধা)
✓ ভৌগোলিক সুবিধা: হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সরু (মাত্র ২১ মাইল চওড়া)। ইরান এই ভৌগোলিক সুবিধা ব্যবহার করে খুব সহজেই সাশ্রয়ী 'অপ্রতিসম যুদ্ধ' (Asymmetric Warfare) শুরু করতে পারে।
✓ স্মার্ট মাইন ও ড্রোন ঝাঁক: ইরান সমুদ্রতলে এমন সব মাইন বিছিয়ে দিতে পারে যা শনাক্ত করা কঠিন। এছাড়া তাদের সস্তা কিন্তু কার্যকর আত্মঘাতী ড্রোন ও ফাস্ট অ্যাটাক বোটগুলো বড় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য বড় হুমকি।
✓ প্রক্সি নেটওয়ার্ক: কেবল সরাসরি যুদ্ধে নয়, লেবাননের হিজবুল্লাহ বা ইয়েমেনের হুথিদের মতো প্রক্সি গ্রুপগুলোর মাধ্যমে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানতে পারে। এতে যুদ্ধ কেবল হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি: অর্থনৈতিক বিপর্যয়
মার্কিন বাহিনী সামরিকভাবে ইরানের ঘাঁটি ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য হবে বিশাল।
✓ তেলের দাম: যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০-২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামাবে।
✓ সরবরাহ বন্ধ: যদি ইরান সফলভাবে প্রণালিটি সাময়িকভাবেও বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত বিশ্লেষণ
মার্কিন বাহিনী সামরিক শক্তিতে ইরানের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে থাকলেও, হরমুজ প্রণালিতে 'পরিপূর্ণ সফলতা' অর্জন করা তাদের জন্য কঠিন হবে। কারণ:
১. ইরান সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং চোরাগোপ্তা হামলায় লিপ্ত হতে পারে।
২. সামরিক জয় আসলেও, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা রাজনৈতিকভাবে মার্কিন সরকারকে চাপে ফেলবে।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট