ডাব বিক্রি করে মাসে আয় ২৫ লাখ, উদ্যোক্তা হতে প্রয়োজন একটু ভিন্ন আইডিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, গ্লোলিংক
রাজধানী ঢাকায় ডাবকে বাণিজ্যিকভাবে ব্র্যান্ডিং ও হোম ডেলিভারি সেবার মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তুলেছে 'কোকো গ্রিন' নামক একটি স্টার্টআপ। ২০২২ সালে দুই বন্ধু মো. সুজন আহমেদ ও মো. রোকনুদ্দৌলার হাত ধরে মাত্র ৮ হাজার টাকা পুঁজিতে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রতি মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করছে।
কোকো গ্রিনের শুরুর গল্প
থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে ডাবকে নির্দিষ্ট আকারে কেটে পরিবেশন করার পদ্ধতি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সুজন ও রোকনুদ্দৌলা এই ব্যবসায় নামেন। শুরুতে কারওয়ান বাজার থেকে ১০০টি ডাব কিনে নিজেদের বাইকে করে ডেলিভারি দিতেন। বর্তমানে চীন থেকে আমদানিকৃত আধুনিক কাটিং যন্ত্রের সাহায্যে ডাবগুলো সুন্দরভাবে পরিবেশনযোগ্য করে তোলা হয়।
পণ্য ও সেবা
✓ অনলাইন ডেলিভারি: কোকো গ্রিন মূলত ছয়টি ডাবের কার্টন সরবরাহ করে। মাঝারি আকারের কার্টনের দাম ৮৪০ টাকা এবং বড় আকারের ডাব ৯৬০ টাকা। প্রতিটি কার্টনের সাথে স্ট্র ও পাঞ্চ কিট দেওয়া হয়। ✓ ডাবের পুডিং: অবিক্রীত ডাব কাজে লাগাতে ইউটিউব দেখে তারা ডাবের পানি ও শাঁস দিয়ে পুডিং তৈরি শুরু করেন, যা বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। ✓ অন্যান্য পণ্য: ডাব ও নারিকেল থেকে তারা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল, নারিকেলের দুধ, বরফি, নাড়ু ও চিপস তৈরি করছে। এমনকি ডাবের বর্জ্য দিয়ে চারকোল তৈরির পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে।
বাজার ও গ্রাহক
কোকো গ্রিনের গ্রাহক তালিকায় সাধারণ ভোক্তাদের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন নামী ক্লাব, জিমনেসিয়াম, হাসপাতালের ক্যান্টিন এবং বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে গুলশান, বনানী ও উত্তরার মতো এলাকাগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি অর্ডার আসে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১২ জন কর্মী কাজ করছেন এবং প্রতি মাসে প্রায় ২৪-২৫ হাজার ডাব বিক্রি হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শুরুতে ভালো মানের ডাব চেনা এবং বৈরী আবহাওয়ায় ডাব সংরক্ষণ করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা সমাধানে তারা এখন আড়তে সরাসরি বিনিয়োগ করেছেন। ঢাকার সফলতার পর আগামীতে চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে নিজেদের সেবা বিস্তারের লক্ষ্য রয়েছে কোকো গ্রিনের।
সাশ্রয়ী পুঁজি আর উদ্ভাবনী চিন্তা যে একটি সাধারণ পণ্যকেও ব্র্যান্ডে রূপান্তর করতে পারে, কোকো গ্রিন তার অন্যতম উদাহরণ।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট