ধর্ষণ প্রতিরোধ ও দ্রুত বিচারে জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পদক্ষেপ, বাংলাদেশে ধর্ষণের শাস্তি কি?
নিজস্ব প্রতিবেদক, গ্লোলিংক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্ষণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিদ্যমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিতে এই ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ নেওয়া হয়েছে। মূলত তদন্তের ধীরগতি ও দীর্ঘ শুনানির কারণে ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত শেষ করাই এর লক্ষ্য। সরকার সমাজ থেকে ধর্ষণ প্রবণতা নির্মূলে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অতিরিক্ত জানাঃ
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী ধর্ষণের অপরাধে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরণ অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা ভিন্ন হয়:
✓ সাধারণ ধর্ষণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো নারীকে ধর্ষণ করেন, তবে তার জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর পাশাপাশি অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
✓ ধর্ষণের ফলে মৃত্যু: ধর্ষণের কারণে যদি ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটে, তবে অপরাধীর শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড।
✓ দলবদ্ধ ধর্ষণ: একাধিক ব্যক্তি মিলে কোনো নারীকে ধর্ষণ করলে এবং সেই ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী আহত হলে বা মারা গেলে, প্রত্যেকের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
✓ ধর্ষণের চেষ্টা: ধর্ষণের চেষ্টার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৫ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, সাথে অর্থদণ্ডও হতে পারে।
✓ ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশু: ধর্ষণের কারণে কোনো শিশুর জন্ম হলে সেই শিশুর ভরণপোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করবে এবং এই খরচ দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পদ থেকে আদায় করা হবে।
দ্রষ্টব্য: ২০২০ সালের সংশোধনীতে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে 'মৃত্যুদণ্ড' অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগে শুধুমাত্র যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছিল।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট