অন্যায়ের প্রতিবাদ ইসলাম ধর্মে যেভাবে করতে বলেছে। প্রতিবাদ করার ৩টি ধাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামী কলাম, গ্লোলিংক
ইসলাম ধর্মে 'সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ' করার জন্য বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওযা হয়েছে, বাস্তবিক পক্ষেও সৎ কাজে মানুষকে অনুপ্রেরণা ও অসৎ কাজের নিষেধ না করা হয়, তাহলে সমাজ নষ্ট হয়ে যায়। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে গেছেন। সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, অন্যায় প্রতিরোধের তিনটি পদ্ধতি বা ধাপ রয়েছে:
অন্যায় প্রতিরোধের উক্ত তিনটি ধাপ হলো:
✅ শক্তি প্রয়োগ বা সরাসরি বাধা প্রদান: যদি আপনার হাতে ক্ষমতা বা সামর্থ্য থাকে, তবে প্রথম দায়িত্ব হলো অন্যায়টি সরাসরি হাত দিয়ে বা শক্তি প্রয়োগ করে বন্ধ করা।
যদি সরাসরি শক্তি প্রয়োগ করার সমার্থ না থাকে, তাহলে দ্বিতীয় ধাপ হলো
✅ মুখ ফুটে প্রতিবাদ করা: যদি সরাসরি বাধা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে, তবে মুখে এর প্রতিবাদ করতে হবে। অন্যায়ের কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, নসিহত করা বা এটি যে ভুল তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
যদি মুখে প্রতিবাদ করলেও ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে, তাহলে শেষ উপায় হলো
✅ মনে মনে ঘৃণা করা: যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে হাত দিয়ে বা মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ নেই, তবে শেষ ধাপ হলো ওই অন্যায়কে অন্তরে ঘৃণা করা। এটি হলো ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর, অর্থাৎ মনে মনে এটি বিশ্বাস করা যে কাজটি ভুল এবং তা কোনোভাবেই সমর্থন না করা।
কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা
✅ প্রজ্ঞা ও কৌশল: অন্যায় প্রতিরোধের সময় কঠোরতা না দেখিয়ে ধৈর্য ও হিকমতের সাথে কাজ করা উচিত, যাতে বড় কোনো বিশৃঙ্খলা বা ফেতনা তৈরি না হয়।
✅ সংশোধনের মানসিকতা: কাউকে হীন প্রতিপন্ন করা নয়, বরং সমাজ ও ব্যক্তিকে সংশোধন করার পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিবাদ করা জরুরি।
✅ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা: ইসলাম অন্যের ব্যক্তিগত দোষ খুঁজে বেড়াতে বা গোয়েন্দাগিরি করতে নিষেধ করেছে। তবে প্রকাশ্যে কোনো অন্যায় হতে দেখলে তা সংশোধন করা সামাজিক দায়িত্ব।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট